নিউজ পোর্টাল

পটিয়ায় বিএনপিতে ৩ হাই প্রোফাইল, শক্ত প্রার্থী জামায়াতের

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ফটো কার্ড
পটিয়ায় বিএনপিতে ৩ হাই প্রোফাইল, শক্ত প্রার্থী জামায়াতের
0:00 খবর শুনুন 0:00
পটিয়ায় বিএনপিতে ৩ হাই প্রোফাইল, শক্ত প্রার্থী জামায়াতের
পটিয়ায় সুন্নী আর সংখ্যালঘু ভোটে পাল্টে যেতে পারে চিত্র

আকতারুজ্জামান ফাহিম, পটিয়া 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির তিন হাই প্রোফাইল নেতা পটিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত করে রেখেছে। এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এ আসনে প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন জোগাড় করতে জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করছেন। তাদের এই তৎপরতায় পটিয়ার রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন বেশ চাঙা। পটিয়া আসনে বিএনপির প্রধান তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন এনামুল হক এনাম, ইদ্রিস মিয়া এবং সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তিন প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। ভোটারদের সমর্থন জরিপে এনামুল হক এনাম প্রায় ৩০%, ইদ্রিস মিয়া ২৫% এবং গাজী শাহজাহান জুয়েল ২০% সমর্থন পেতে পারেন। কিন্তু এই ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও বিভাজন সৃষ্টি করেছে। কেউ এনামের, কেউ ইদ্রিসের, আবার কেউ জুয়েলের অনুসারী। এই অন্তঃদ্বন্দ্ব দলের সংহতিকে দুর্বল করছে এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি দল কোনো একক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়, বাকিরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই মানবিক টানাপোড়েন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে কাজ করছেন। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এমদাদুল হক তার ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। তবে অতীতের স্থানীয় নির্বাচনে তার আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগসাজশের বিষয়টি নিয়ে এখনো কিছু পর্যবেক্ষকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. ফরিদ আলম তার সীমিত পূর্ব অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও দলীয় শক্তির ওপর নির্ভর করে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করছেন। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে তার ইতিবাচক অবদান তুলে ধরে বেকারমুক্ত আধুনিক পটিয়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ইসলামী ফ্রন্টের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু সুন্নি অধ্যুষিত এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। কিন্তু ১৩, ১৮ এবং ২৪ সালের নির্বাচনে তার দলের অংশগ্রহণের কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তার প্রভাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

জানা গেছে, পটিয়া আসনের হিন্দু ভোটাররা মোট ভোটের ৫-৭%। ঐতিহ্যগতভাবে তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও এবার সব প্রার্থীই তাদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। প্রার্থীরা মন্দির উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে মানবিক সংযোগ স্থাপন করছেন, যা ভোটারদের মনে গভীর ছাপ ফেলছে। নির্বাচনে ইসলামী ফ্রন্ট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সুন্নি অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন। তাদের মধ্যেকার সাংঘর্ষিক মনোভাব নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পটিয়ার নির্বাচনী লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখানে জয়-পরাজয় নির্ভর করবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত আবেদন, দলের সমর্থন, তৃণমূলের সক্রিয়তা এবং ভোটারদের মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষমতার ওপর। শুধু রাজনৈতিক কৌশলই নয়, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াটাই শেষ পর্যন্ত জয়ের পথ খুলে দেবে। এই নির্বাচন পটিয়ার মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং আদর্শের এক জটিল মিশেল।

ইই

পঠিত : ১ বার

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।