নিউজ পোর্টাল

অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতে গোপন বৈঠক ও গেরিলা প্রশিক্ষণ: যুবলীগ নেতার স্বীকারোক্তি

shakhawat sohan
shakhawat sohan
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫
ফটো কার্ড
অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতে গোপন বৈঠক ও গেরিলা প্রশিক্ষণ: যুবলীগ নেতার স্বীকারোক্তি
0:00 খবর শুনুন 0:00
অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতে গোপন বৈঠক ও গেরিলা প্রশিক্ষণ: যুবলীগ নেতার স্বীকারোক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক 

অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অনলাইনে ও সরাসরি বিভিন্ন গোপন বৈঠক পরিচালনা করছেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরই অংশ হিসেবে গত ৮ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা সংলগ্ন কে বি কনভেনশন সেন্টারে একটি গোপন বৈঠক এবং নেতাকর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা সোহেল রানা সম্প্রতি ঢাকার আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দিতে তিনি সেদিনকার গোপন বৈঠক ও প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

ঘটনার পেছনের কাহিনী

ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালতে জানান, মেজর সাদেকুল হকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনের নির্দেশে তিনি কে বি কনভেনশন সেন্টার ভাড়া করেন। হল ভাড়ার সময় কেউ জানতে পারেনি যে সেখানে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সুমাইয়া জাফরিন নিজেই হলের ভেতরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনিই ঠিক করে দেন কীভাবে চেয়ার বসানো হবে এবং কে কোথায় বসবেন। এছাড়াও, বৈঠকে যেন কেউ অপ্রাসঙ্গিক কথা না বলে, সে বিষয়টিও তিনি দেখভাল করেন। হল ভাড়া করার জন্য তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহাদুজ্জামান মোল্লার স্ত্রী শামীমা নাসরিন শম্পার (বর্তমানে কারাগারে) সাহায্য নেন।

নিয়মিত গোপন বৈঠক

সোহেল তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তরায় মেজর সাদিক-জাফরিনের ফ্ল্যাট বাসায় নিয়মিত গোপন বৈঠক করতেন। এসব বৈঠক থেকে তার সঙ্গে সুমাইয়া জাফরিনের পরিচয় হয়। সোহেলের ভাষ্যমতে, সুমাইয়া তার স্বামীর সঙ্গে ওই গোপন বৈঠক ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সোহেলের জবানবন্দি থেকে আরও তথ্য
সোহেল বলেন, গত ৮ জুলাই সুমাইয়া জাফরিন তার স্বামীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত হন। সেদিন প্রায় ৩০০ জনের বেশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে আরও অনেকে যুক্ত হন। বৈঠকে সুমাইয়া জাফরিন সবাইকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন এবং কীভাবে ঢাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলেই সময়মতো ঢাকা অস্থিতিশীল করা হবে বলে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে।

অন্যান্য আসামির স্বীকারোক্তি

এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চালক লীগের সভাপতি মিলন শিকদারও গত ১০ আগস্ট আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিশেষ কোড ব্যবহার করতেন। প্রশিক্ষণে সিদ্ধান্ত হয় যে শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলে সারা দেশ থেকে লোকজন ঢাকায় এসে শাহবাগ মোড় দখল করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। এরপর জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ উদ্দেশ্যে সভায় সবাই শপথ নেন। মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনই সবাইকে প্রশিক্ষণ দেন।

সুমাইয়ার স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য গ্রেপ্তার
এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত ১২ আগস্ট মেজর সাদিকুলের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনও নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তদন্ত কর্মকর্তা জেহাদ আদালতকে জানান, সুমাইয়া একটি বহুজাতিক কোম্পানির আঞ্চলিক কর্মকর্তা ছিলেন এবং তার স্বামীর সঙ্গে এ গোপন বৈঠকে জড়িত ছিলেন। সভা চলাকালীন কনভেনশন হলের সিসিটিভির ডিভিআরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দেব ওরফে নয়ন এবং সন্দীপ থানা ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দিন রনিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মেজর সাদিকুলের বিচার সেনা হেফাজতে চলছে।

ইই

পঠিত : ১ বার

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।