নিউজ পোর্টাল

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার পর যৌথ অভিযানে আটক ২০-৩০

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬
ফটো কার্ড
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার পর যৌথ অভিযানে আটক ২০-৩০
0:00 খবর শুনুন 0:00
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার পর যৌথ অভিযানে আটক ২০-৩০
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্পে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াত ব্যাহত করতে একাধিক স্থানে রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত একটার পর আলীনগর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে ২০ থেকে ৩০ জনকে আটক করে।

সোমবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, সদ্য স্থাপিত র‍্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করে। হামলাকারীদের হাতে একে-৪৭ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, “প্রথমে আমাদের সদস্যরা রাবার বুলেট ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা এক্সকাভেটর ও বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়।”

তিনি আরও জানান, রাস্তা কেটে দেওয়ায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাহিনীর সদস্যদের হেঁটে যেতে হয়েছে। সেই সুযোগে হামলাকারীদের একটি অংশ পালিয়ে যায়। হামলার জন্য ‘ইয়াসিন বাহিনী’কে দায়ী করে তিনি বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযানে এলাকা থেকে বিতাড়িত হওয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, হামলায় অংশ নেয় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি। তারা আলীনগর স্কুলসংলগ্ন যৌথবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পাশের পাহাড়ে থাকা টিনের ঘর ব্যবহার করে আড়াল থেকে হামলা চালায়।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “যে ক্যাম্পটি ভাঙচুর করা হয়েছে, সেটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। ঈদের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এটি উদ্বোধনের কথা ছিল।”

তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্য ছিল যৌথবাহিনীর সদস্যদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং নতুন ক্যাম্প স্থাপন ঠেকানো। এ সময় পুলিশ সদস্যরা শটগান, চাইনিজ রাইফেল ও গ্যাসগান ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মোট ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে।

এসপি মাসুদ আলম বলেন, “শক্ত প্রতিরোধের কারণে সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। আমাদের কোনো সদস্য হতাহত হয়নি। জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আর আগের মতো অবস্থান গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার আগে অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা কেটে বড় গর্ত তৈরি করা হয়, যাতে অতিরিক্ত ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে না পারে। এরপরও রাতেই যৌথবাহিনী সেখানে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।

বর্তমানে পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় সরকার। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। পরবর্তীতে সেখানে পুলিশ ও র‍্যাবের প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।

পঠিত : ১ বার

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।