নিউজ পোর্টাল

এনসিটি-সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ৩ আগস্ট ২০২৬
ফটো কার্ড
এনসিটি-সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা
0:00 খবর শুনুন 0:00
এনসিটি-সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা
বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-সহ বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা না দেওয়ার দাবিতে এক বিশাল পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


সোমবার (৩ আগস্ট) ‘বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম’-এর উদ্যোগে নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।


পদযাত্রাটি বারিক বিল্ডিং মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। পরবর্তীতে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে বাদামতলী মোড়ে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।


সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে তা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, তবে তার অর্থ এই নয় যে জাতীয় সম্পদ ইজারা দিতে হবে।” তিনি আরও যুক্ত করেন, এই বন্দরের ওপর লাখো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল, তাই জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেশের জনগণ মেনে নেবে না।


বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ। শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষা করে বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া গ্রহণযোগ্য হবে না। রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই বন্দরের আধুনিকায়ন করতে হবে।”


জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে শ্রমিক সমাজ তা প্রতিরোধ করবে। এছাড়াও সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। বক্তারা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দুর্নীতি দূরীকরণ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের দাবি জানান।


সমাবেশ থেকে আগামী ১৫ আগস্ট সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ‘জুলাই হলে’ ‘বন্দর রক্ষা নাগরিক কনভেনশন’ আয়োজনের ঘোষণা দেন প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। তিনি জানান, শ্রমিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করতেই এই কনভেনশন আহ্বান করা হয়েছে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’, ‘এনসিটি-সিসিটি ইজারা দেওয়া চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন।


সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য দীপা মজুমদার, টিইউসি নেতা ইফতেখার কামাল খান সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

ইই

পঠিত : ১ বার

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।